AdvertisementAdvertisement

আর কোনো দেশের নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ আর কখনও কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল বা ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ হিসেবে পরিণত হবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান অর্জন হলো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অটুট রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যেন কখনোই পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে যে অবস্থান কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিল, তা পুনরুদ্ধারেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দুই বছর আগের ভয়াবহ পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সেই সময়ে দেশের শিশু-কিশোরদের প্রাণহানি, দমন-পীড়ন এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো ঘটনাগুলো ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনকি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এমন নজিরবিহীন তথ্যপ্রবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সেই সময়টিকে তিনি অন্যতম অন্ধকার ও নৃশংস অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলও সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নানা ধরনের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে যেসব শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার কোনোটিই বাস্তবে ঘটেনি, বরং বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতও বক্তব্য রাখেন।

পরিশেষে ২০২৪ সালের সেই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি আহত এবং সেই দুঃসময়ের জীবন্ত সাক্ষীদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, আন্দোলনকারীদের এই সাহস ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

0%
0%
0%
0%