আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে আদালতের রায়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কোনো নির্বাহী আদেশের পরিবর্তে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই আস্থা রাখছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই দলটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত ফসল হিসেবে অভিহিত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দীর্ঘ লড়াই ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় এই পরিবর্তন এসেছে। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সুযোগ যখন রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন রক্তক্ষয়ী বিপ্লব অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর ‘জুলাই কার’—এমন কোনো ক্ষুদ্র বিতর্কে জড়িয়ে বিভাজনের পথ পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোয় কার্যকর পরিবর্তন আনতে হলে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা অত্যাবশ্যক। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের মতামতের ভিত্তিতে এমন একটি সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে। যদিও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে, তবুও অনেকে এখনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একাত্তরের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনীতি করা শেখ হাসিনা এখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তার মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় হলেও তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
