AdvertisementAdvertisement

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে আহত ১৫ জন

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজ চত্বরে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ সংঘাতের সূত্রপাত হলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম ও রাসেল রয়েছেন। এছাড়া ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ এবং বন্দর থানা শাখার সভাপতি আসাদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সরকারি তোলারাম কলেজের অডিটোরিয়ামে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখার সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সভা শেষে কলেজ রোড ও চাষাঢ়া এলাকায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। এ ঘটনার জেরে মুহূর্তেই ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট গুটিয়ে নিরাপদে সরে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব দাবি করেছেন, কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির মহানগর সভাপতি অমিত হাসান ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, কলেজের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের জের ধরে প্রথমে ছাত্রদলের কর্মীরা তাদের কলেজ শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বেধরক পিটিয়ে আহত করেন। তিনি আলোচনার জন্য সেখানে উপস্থিত হলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ও আহতদের পরিবার দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%