ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন দীর্ঘায়িত করার ব্যয় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের পূর্বাভাস পেন্টাগনের

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের সেনা মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। কংগ্রেসের কাছে পাঠানো প্রতিরক্ষা দপ্তরের নথিপত্র অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী এই মোতায়েনের পেছনে খরচ হবে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাটিক দলীয় সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের প্রশ্নের জবাবে এই ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে আসে, যা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে প্রথম উঠে আসে।
২০২৭ থেকে ২০২৯ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ের জন্য এই ব্যয় ধরা হয়েছে। পেন্টাগনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে গড়ে ২,৫০০ সেনা সদস্য রাজধানীতে অবস্থান করবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা জরুরি আদেশের অংশ হিসেবে অপরাধ দমনের অজুহাতে গত গ্রীষ্ম থেকে এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়। সশস্ত্র ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা তখন থেকেই নগরীর রাস্তায় টহল দেওয়া, গ্রেপ্তার অভিযানে সহায়তা এবং তুষার পরিষ্কারসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এই বিশাল অংকের বাজেট এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, এটি ওয়াশিংটনের স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ এবং রাজধানীর রাস্তাঘাটকে অহেতুক সামরিকীকরণ করছে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সাধারণ মার্কিনীরা যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ট্রাম্প তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে জনগণের ১.৪ বিলিয়ন ডলার অপচয় করছেন।
ওয়াশিংটনের অধিবাসীদের মধ্যেও এই সামরিক উপস্থিতিকে ঘিরে বাড়ছে অসন্তোষ। সোমবার ‘ফ্রি ডিসি’ শীর্ষক এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনেক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, এই বিপুল অর্থ স্বাস্থ্যসেবা কিংবা খাদ্য সহায়তায় ব্যয় করা যেত। জনগণের করের টাকার এমন অপচয় মেনে নিতে পারছেন না তারা।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসি এবং ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪,৬০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য রাজধানীতে অবস্থান করছেন। ডিসির ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে এই সংখ্যা গ্রীষ্মকালে ৫,০০০-এ উন্নীত হয়েছিল। যদিও পেন্টাগন জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেন, তবে বর্তমানে থাকা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সেনারা কত দ্রুত নিজ নিজ এলাকায় ফিরবেন, তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
