চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল স্পেসএক্সের রকেটের খণ্ড, গবেষণার নতুন সুযোগ দেখছেন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন ৯ রকেটের চার টন ওজনের পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে। বুধবার ভোরে আইনস্টাইন ক্রেটারের নিকটবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে এই সংঘর্ষ ঘটে। মহাকাশচারী ও ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই আঘাতের ফলে প্রায় তিন টন টিএনটির সমপরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়েছে, যা চন্দ্রপৃষ্ঠে নতুন একটি গহ্বর তৈরি করেছে।
সাধারণত রকেটের ব্যবহৃত অংশগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায় কিংবা মহাসাগরের নির্জন স্থানে পতিত হয়। তবে এক্ষেত্রে সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তির প্রভাবে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে রকেটের অংশটির কক্ষপথ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। স্পেসএক্সের নাসা বিজ্ঞান ও ড্রাগন কর্মসূচির পরিচালক জুলিয়ানা শেইম্যান জানিয়েছেন, অবশিষ্ট জ্বালানি সীমাবদ্ধ থাকায় এই সংঘর্ষ রোধ করা সম্ভব ছিল না, যা মূলত মহাকর্ষীয় বল ও সৌরচাপের সম্মিলিত ফল।
এই বিরল ঘটনাটি নিয়ে নাসার লুনার রিকনসাঁ অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি মহাকাশযান নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। যদিও সংঘর্ষের মুহূর্তটি দিনের আলোর কারণে সরাসরি দেখা সম্ভব হয়নি, তবে অরবিটারগুলোর উন্নত সেন্সর ধূলিকণার বিচ্ছুরণ এবং নতুন সৃষ্ট গহ্বরের উচ্চমাত্রার ছবি ধারণ করছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই গবেষণার মাধ্যমে উচ্চগতির মহাজাগতিক সংঘর্ষের প্রভাব এবং চাঁদের ধূলিকণার গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
মহাকাশ ট্র্যাকিং বিশেষজ্ঞ বিল গ্রে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি তাৎক্ষণিক কোনো বিপদ না ঘটালেও মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যে এক ধরণের শিথিলতা বিদ্যমান, তা স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, পৃথিবীর কক্ষপথ এখন ক্রমশ জনাকীর্ণ হয়ে উঠছে। এর আগে ২০২২ সালের ৪ মার্চ একটি চীনা লং মার্চ ৩সি রকেটের অংশ চাঁদের দূরবর্তী পাশে আছড়ে পড়েছিল, যা ছিল চাঁদে মানবসৃষ্ট বস্তু পতনের প্রথম স্বীকৃত ঘটনা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
