AdvertisementAdvertisement

আজাদ কাশ্মীরে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, মুজাফফরাবাদে পিএমএল-এন ও পিপিপি-র মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মুজাফফরাবাদ ডিভিশনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। মুজাফফরাবাদ ডিভিশনের ৯টি আসন এবং কাশ্মীরি অভিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের জন্য সকাল ৮টা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ চলে।

এই নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মুজাফফরাবাদ ডিভিশনের আসনগুলোর জন্য ২০৮ জন এবং অভিবাসীদের ১২টি আসনের জন্য ১৩৭ জনসহ মোট ৩৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ লক্ষেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ১ হাজার ৪৮৩টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ হাজার ২১৯টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিরাপত্তার খাতিরে তিনটি নির্বাচনী এলাকা যথাক্রমে এলএ-২৮, এলএ-২৯ এবং এলএ-৩১-কে অতি সংবেদনশীল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৮ জন করে, সংবেদনশীল কেন্দ্রে ৬ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ৪ জন করে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ, পাকিস্তান পিপলস পার্টি এবং ইশতেকাম-এ-পাকিস্তান পার্টিসহ মোট ২৫টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন।

মুজাফফরাবাদ জেলায় ৫টি আসনের জন্য ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ২১৯ জন, নীলম জেলায় ২টির জন্য ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৯১১ জন এবং ঝিলাম ভ্যালিতে ২টির জন্য ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০০ জন ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন। পাকিস্তানর প্রধান নির্বাচন কমিশনার গোলাম মোস্তফা মুঘল ভোটারদের প্রতি তাদের জাতীয় দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ভারি বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের কারণে এলএ-২৭ মুজাফফরাবাদ-১ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভোটগ্রহণে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এলএ-২৮ এর ৭১টি কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তারা যথাসময়ে না পৌঁছানোয় এবং এলএ-৩১ এর বেশ কিছু কেন্দ্রে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দলটির পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির অভিযোগ, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ভোটাররা দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন, যা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। দলটির পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব কেন্দ্রে কর্মী মোতায়েন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সময়ের ক্ষতিপূরণে ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরি অভিবাসীদের ১২টি আসনের জন্য গুজরানওয়ালা, গুজরাত, শিয়ালকোটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটগ্রহণ চলছে। আগামী ১০ আগস্ট পুঞ্চ ডিভিশনে নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%