ফিফা বাঁচাতে ট্রাম্পের দ্বারস্থ ইনফান্তিনো কোণঠাসা ফুটবল প্রধানের অস্তিত্ব সংকটে নতুন মোড়

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর চরম সংকটের মুখে পড়েছেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিজের অবস্থান সুসংহত করতে এবং চারদিকের সমালোচনার তোপ থেকে বাঁচতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শুক্রবার পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাতিল হওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনো নিজেকে বেশ কোণঠাসা অনুভব করছেন এবং বারবার ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
ফিফার ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ৪২০ কোটি ডলারের যে চুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা অংশীজনদের তীব্র আপত্তির মুখে পড়ে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই ব্যর্থতার পর ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ফিফা প্রেসিডেন্টের পদে ইনফান্তিনোর টিকে থাকা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই পরিকল্পনার সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতার ভাই জশুয়া কুশনারের থ্রাইভ ক্যাপিটাল যুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে দীর্ঘদিনের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে ফিফার উদ্বোধনী ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদানের মধ্য দিয়ে তাদের সেই ঘনিষ্ঠতা আরও প্রকাশ্যে আসে। সেই সুবাদেই হয়তো কঠিন সময়ে ট্রাম্পের সহযোগিতা পাওয়ার আশায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন ইনফান্তিনো। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওয়ের সঙ্গেও তিনি গোপনীয় বৈঠকের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সংবাদ পাওয়া গিয়েছিল।
তবে সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে যাওয়ার পথে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে মার্কো রুবিওয়ের কোনো ধরনের কথোপকথন বা বৈঠকের পূর্বনির্ধারিত কোনো সূচি নেই। ফিফার তরফ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একের পর এক ব্যর্থতা এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণার মাঝে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে।
