ইনফান্তিনোর সংকটে উয়েফার আইনি তোপ ফিফার গদি টলমল

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘিরে এখন উত্তাল ফুটবল অঙ্গন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পক্ষ থেকে ফিফাকে পাঠানো একটি আইনি নোটিশ নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এই নোটিশটি মূলত একটি ‘ডকুমেন্ট প্রিজারভেশন লেটার’ বা প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশনামা, যা আইনি লড়াইয়ের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফিফার ১৮ জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা মামলার সম্ভাব্য তথ্য-প্রমাণ হিসেবে কোনো নথিপত্র বা ইলেকট্রনিক বার্তা মুছে না ফেলেন বা পরিবর্তন না করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারসহ সংস্থার একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম এই তালিকায় রয়েছে। যদিও ওয়েঙ্গার দাবি করেছেন যে, ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। এদিকে, উয়েফা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ফিফা প্রেসিডেন্টের ওপর থেকে তাদের আস্থা সম্পূর্ণ উঠে গেছে। যদিও বয়কটের হুমকি আপাতত স্তিমিত মনে হচ্ছে, তবে ফিফাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।
ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্দরমহলে অস্থিরতা চরমে। ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম কর্মীদের ইমেইলে অস্থির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন এখন আর কেবল বাতাসে ভাসছে না। উয়েফা ছাড়াও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ ফিফার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যে এএফসি সরাসরি উয়েফার পাশে দাঁড়িয়েছে।
ইনফান্তিনোর টিকে থাকার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে এখন আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) ওপর চোখ সবার। প্যাট্রিস মোৎসেপের নেতৃত্বাধীন সিএএফ-এর পরবর্তী সভায় কি সিদ্ধান্ত আসে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা নিশ্চিত যে, আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জহীন পথ পাড়ি দিতে হবে না। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা এই প্রেসিডেন্টের জন্য এখন নিজের অবস্থান ধরে রাখা এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার নামান্তর।
সব মিলিয়ে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনে দাঁড়াতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবল বিশ্ব। পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ২০ বছরের অনূর্ধ্ব নারী বিশ্বকাপে উয়েফার সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলেও, মাঠের বাইরের এই আইনি লড়াই ফুটবল প্রশাসনের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। উয়েফা এখন যেকোনো মূল্যে ফিফার এই বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা রুখে দিয়ে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মরিয়া।
