ফিফার মসনদে টালমাটাল অবস্থা ইনফানতোর বিদায় ঘণ্টার গুঞ্জন বিশ্ব ফুটবলে তীব্র সংকট

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে চরম সংকট। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন, তা প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি এখন তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সংস্থার প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। এর ফলে ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান এখন টালমাটাল।
ফুটবল প্রশাসনের অন্দরমহলে গত কয়েকদিন ধরে চলা এই টানাপোড়েনের পর ইনফান্তিনো তার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে দুঃখপ্রকাশ করলেও বিশ্ব ফুটবলে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আনার এই উদ্যোগ পুরো সংস্থাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম নেননি, তবুও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এসব অস্থিরতা ফুটবলের মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই এটি জানতে পেরেছেন। স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রাখার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়াকে সময়ের দাবি বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, ইনফান্তিনোর প্রধান উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো এটিকে ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন। ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর এই পরিকল্পনাকে সভাপতির একক প্রকল্প হিসেবে আখ্যা দিয়ে কর্মীদের প্রতারিত করার অভিযোগ তুলেছেন।
বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় অঞ্চলগুলো এখন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ইউরোপীয় কনফেডারেশন উয়েফা এবং কনকাকাফ ইতোমধ্যে ফিফা সভাপতির ওপর তাদের অনাস্থার কথা জানিয়েছে। এমনকি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) যথাযথ পরামর্শ ছাড়া এমন উদ্যোগকে অগ্রহণযোগ্য বলে কঠোর সমালোচনা করেছে। জানা গেছে, উয়েফা, কনকাকাফ এবং এএফসি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ মার্চ মাসে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে তার পুনঃনির্বাচনের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
আগামী মার্চ মাসে ফিফা কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য দেশের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইনফান্তিনোর টিকে থাকার লড়াই এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যদি ৪৩টি সদস্য দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আবেদন করে, তবে জরুরি কংগ্রেস ডেকে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সুযোগ রয়েছে। এদিকে নরওয়ের ফুটবল প্রধান লিসে ক্লাভেনেজকে পরবর্তী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভাবছেন অনেকে। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ইনফান্তিনোর জন্য এখন আগামী সাত মাস হবে চরম পরীক্ষার সময়। ফুটবল বিশ্বের আস্থা পুনরুদ্ধার করে টিকে থাকা এখন তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
