AdvertisementAdvertisement

পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা সংস্কারে লাহোর ঘোষণা ও জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান

পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার সংকট নিরসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো বিনির্মাণের লক্ষ্যে লাহোরে অনুষ্ঠিত হলো এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা। ‘গভর্নেন্স: লেকিন নিজাম কিয়া’ শীর্ষক এই আয়োজনে দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। দ্য ইউনিভার্সিটি অব লাহোরে আয়োজিত এই সংলাপে পাকিস্তানের বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে একটি টেকসই উত্তরণ পথ খোঁজার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আলোচনা শেষে ‘দ্য লাহোর ডিক্লারেশন’ বা লাহোর ঘোষণা গৃহীত হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকারকে সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান এবং রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা একমত হয়েছেন যে, টেকসই গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শাসনব্যবস্থাকে অবশ্যই নাগরিককেন্দ্রিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হতে হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার মালিক আহমেদ খান এবং পাকিস্তানের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার-উল-হক কাকারসহ দেশের অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। অরাজনৈতিক এই একাডেমিক আয়োজনে জার্মানি, চীন, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সফল শাসনব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিমত দেন যে, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি।

ঘোষণাপত্রে পাকিস্তানের সংবিধানের ১৪০-এ অনুচ্ছেদের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে যেন খামখেয়ালিভাবে ভেঙে দেওয়া না যায় এবং সেখানে যেন নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফসহ সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এই সংলাপের উদ্যোক্তারা বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই গ্রুপগুলো শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যারা তথ্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ও জাতীয় নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তানের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে এই জাতীয় সংলাপ অব্যাহত রাখা হবে।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%