ইরানের হামলার নিশানায় ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীসমূহ

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে। এই যুদ্ধের ডামাডোলে ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী দলগুলোর ঘাঁটিগুলো এখন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পরিণত হয়েছে। তেহরান সরকারের পতনে কুর্দি যোদ্ধাদের ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চললেও, কুর্দি নেতারা বলছেন, তারা এখনো কোনো বিদেশী সামরিক সহায়তা পাননি।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইরাকে অবস্থিত কুর্দি রাজনৈতিক ও সামরিক স্থাপনাগুলো। ‘কোমালা পার্টি অফ ইরানি কুর্দিস্তান’-এর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য কাকা আলিয়ার জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাদের দলের ১৩ জন যোদ্ধা ইরানি হামলায় নিহত হয়েছেন। কুর্দিস্তানের ‘ফ্রিডম পার্টি’-র নেতা রেবাজ শারিফি দাবি করেছেন, তাদের ঘাঁটিগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহে ৮০ বারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা এসব কুর্দি দলগুলোর কাছে হাজার হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা থাকলেও, তারা যুদ্ধের নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলায় চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রেবাজ শারিফি স্পষ্ট করেছেন, তারা তেহরানবিরোধী যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার চেয়ে ইরাকি কুর্দি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। যদিও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানকে চাপে ফেলতে কুর্দি যোদ্ধাদের সংহত করার কথা বলছে, তবুও বাস্তব ময়দানে অস্ত্র বা সরাসরি সামরিক সাহায্যের কোনো অস্তিত্ব দেখছেন না কুর্দি নেতারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি কুর্দি দলগুলো এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়েছে। ইরানি বিষয়াশয় বিশেষজ্ঞ সোরান পালানি মনে করেন, ইরাকের কুর্দি অঞ্চল এসব দলকে রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের জায়গা দিলেও, তা অঞ্চলটিকে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি আরব বা ইউরোপীয় সহায়তা না পাওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সামরিক ঝুঁকি নিতে নারাজ কুর্দি পক্ষগুলো।
এদিকে ইরাকি সরকার বারবার সতর্ক করে বলেছে যে, তাদের ভূখণ্ড প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে না। বর্তমানে তেহরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—কোনটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে, তা নিয়ে সংশয়ে কুর্দি নেতারা। যুদ্ধের এই পরবর্তী পর্যায় কুর্দিস্তানের ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
