AdvertisementAdvertisement

কুয়েতের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা পাল্টা আঘাতের দাবি তেহরানের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে দেশটির সেনাবাহিনী এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত স্থাপনা, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গত বুধবার রাতে ইরানের কেশম দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বাহিনীর চালানো বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ওই মার্কিন হামলায় কেশম দ্বীপে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও সামরিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এই হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্যও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তেহরানভিত্তিক কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক আলী আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে জানান, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বিস্তারের মাধ্যমে তেহরানকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যাতে যুদ্ধের সময় ও গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেজন্য ইরান তাদের সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তার ঘটিয়ে কৌশলী চাপ প্রয়োগ করছে, যাতে সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে না গড়ায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক এক হামলায় উত্তর কুয়েতে অবস্থিত একটি চীনা কোম্পানির স্থাপনায় এক কর্মী নিহত হয়েছেন। যদিও বেইজিং দাবি করেছে, এই ঘটনায় তাদের কোনো নাগরিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হননি।

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা এবং মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে মার্কিন মালিকানাধীন গ্যাস ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার ঘটনায় পরিস্থিতির জটিলতা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরির আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%