AdvertisementAdvertisement

স্পেনের সেউতা সীমান্তে অভূতপূর্ব অভিবাসী স্রোত, নিহত ১৯

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় প্রবেশের সময় অন্তত ১৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে অঞ্চলটিতে প্রবেশ করায় নজিরবিহীন মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন সিউতার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা পর্যবেক্ষণ করতে তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাসকা সিউতা সফর করবেন বলে জানা গেছে। সিভিল গার্ড অফিসারদের একটি স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা রাচিদ সবিহি এই ঘটনাকে একটি গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী, যাদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে, তারা এখন খোলা আকাশের নিচে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিহতদের অনেকের মৃত্যুর কারণ সমুদ্রে ডুবে যাওয়া। আবার অনেকে তারাজাল সৈকতের কাছে সীমান্ত প্রাচীর টপকাতে গিয়ে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় মোরাক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে জনস্রোত থামানোর চেষ্টা করেছে। সংঘর্ষের ফলে সেখানে একটি বাস এবং সাতটি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সিউতা এবং মেলিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই আকস্মিক জনস্রোতের পেছনে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে দায়ী করছে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অবিলম্বে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে অধিকারকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, সাধারণ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পক্ষে ওই আইনি জটিলতা সম্পর্কে অবগত থাকা কঠিন।

পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা স্পেনের সঙ্গে তাদের সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেস জানিয়েছেন, সীমান্তে কঠোর তল্লাশি চালাতে দ্রুত হস্তক্ষেপকারী সীমান্ত বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে। সিউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সরকার পরিস্থিতি সামলাতে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%