স্পেনের সেউতা সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত, বেশিরভাগ অভিবাসীর মরক্কোয় প্রত্যাবর্তন

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতায় সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশের পর পরিস্থিতির অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলভারেস জানিয়েছেন, অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন এবং শেনজেন এলাকার অখণ্ডতা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সমুদ্রে ডুবে এবং সীমান্ত বেড়া টপকাতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে মরক্কো সীমান্তের ওপারে আরও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা এই মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েন সিউতার এই দৃশ্যপটকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্স তাদের স্পেন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একে স্পেনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পেন সমুদ্রের দিকে বর্ধিত বেড়ার পাশে নতুন করে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শুক্রবার রাতে মরক্কোর দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হওয়া অভিবাসীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা অনেক অভিবাসী এখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
সিউতা এবং মেলিলা শহর দুটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়কে কেন্দ্র করে অভিবাসীদের এই ঢল নেমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু চক্র আইনি জটিলতা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে অভিবাসীদের বিভ্রান্ত করেছে, যা এই বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে কাজ করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
