চলতি বছরে দেশজুড়ে ৪০ হাজারের বেশি গোয়েন্দা অভিযানে ২ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানর সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ অভিযানের আওতায় দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এই প্রচেষ্টাকে খাটো করার জন্যই এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি।
ইন্টার-সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস বা আইএসপিআর-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানান, চলতি বছর দেশজুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে ৪০ হাজার ৩৪৮টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে কেবল বেলুচিস্তানেই ৩১ হাজার ৮০টি এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৭ হাজার ১৭৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৯৪টি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযানের নিরবচ্ছিন্ন গতিকে নির্দেশ করে।
চলতি বছরে পরিচালিত এসব অভিযানে ২ হাজার ৮৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক বাহিনী। লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে সন্ত্রাসী নিধনের এই হার দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের বাকি পাঁচ মাসে এই অভিযানের গতি আরও বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
পাকিস্তানজুড়ে এ বছর ৩ হাজার ১৪৫টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ১ হাজার ৯৭১টি এবং বেলুচিস্তানে ১ হাজার ১৪৮টি হামলা হয়েছে। এই বছর ২৮টি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই আফগান নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতায় সংঘটিত হয়েছে। এমনকি আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এসব হামলায় সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলেও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে এ বছর ৮১৯ জন পাকিস্তানি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৩০৩ জন সেনাসদস্য, ১৯৪ জন পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং ৩২২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সাল থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে; বর্তমানে প্রতি একজন শহিদের বিপরীতে আড়াই জন করে সন্ত্রাসী খতম করছে পাকিস্তানর নিরাপত্তা বাহিনী।
বেলুচিস্তানের পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও উপজাতীয় সর্দাররা শিক্ষার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া, কিছু সর্দার ‘লেভিস ফোর্স’কে ব্যক্তিগত বাহিনী হিসেবে ব্যবহার এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের সহায়তার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ভারত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির সাথে আফগানিস্তানের অভিন্ন স্বার্থ কোথায়? তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই; তাদের হয় অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে, নতুবা চূড়ান্ত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। পরিশেষে সংবিধানের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
