চট্টগ্রামে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত অস্ট্রেলিয়ার

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ৭ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাট রেনশ’র হার না মানা ৮৯ এবং টিম ডেভিডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করেছিল ৫ উইকেটে ১৯৬ রান। সেই পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৌহিদ হৃদয়ের শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ের পরও ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাসুম আহমেদ ও নাহিদ রানার তোপে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল অজিরা। জশ ইংলিস, কুপার কনোলি ও মিচেল মার্শকে সাজঘরে ফিরিয়ে স্বাগতিকরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ম্যাট রেনশ এবং টিম ডেভিড। বিশেষ করে স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন তারা। রেনশ ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৩টি ছক্কা। ডেভিড ২৬ বলে করেন ৪৫ রান। শেষদিকে জোয়েল ডেভিসের সঙ্গে মিলে রেনশ স্কোরবোর্ডকে নিয়ে যান ১৯৯ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে নাসুম আহমেদ ২৭ রানে নেন ২ উইকেট।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে জমা করেছিল ৭২ রান। তানজিদ হাসান তামিম ১৫ বলে ৩০ রান করে বিদায় নিলেও সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল স্বাগতিকরা। দশম ওভারে দলীয় ১০০ পেরোনো বাংলাদেশ ইনিংসের মধ্যভাগে কিছুটা ছন্দ হারায়। পারভেজ হোসেন ইমন এবং সাইফ হাসান দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে দল। এক পর্যায়ে ১৪তম ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৩৪ রান।
ম্যাচের শেষদিকে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩০ বলে ৫৪ রান। তৌহিদ হৃদয় ক্রিজে থাকলেও অজি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লক্ষ্য কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। হার্ডির করা ওভারের শেষ তিন বলে হৃদয় একটি ছক্কা ও চার মারলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে হৃদয় লড়াই চালিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু অজিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৭ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের। অজিদের হয়ে অ্যারন হার্ডি ৪০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।