জন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে খাবার সরবরাহ নিয়ে তৎপর দিল্লি পুলিশ নজরদারি বাড়াল রেস্তোরাঁ ও ডেলিভারি সংস্থায়

দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলন ঘিরে এবার নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে খাবার সরবরাহ ও এর উৎস অনুসন্ধান নিয়ে। আন্দোলনরতদের কাছে বিপুল পরিমাণ খাবার ও পানীয় পৌঁছানোর বিষয়টি নজরে আসায় মাঠে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া খাবারের প্যাকেট ও র্যাপারের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ক্যাফে এবং রেস্তোরাঁগুলোর তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের খাবারের অর্ডার ও ডেলিভারির তথ্য খতিয়ে দেখতে পুলিশ বিভিন্ন রেস্তোরাঁ মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। দক্ষিণ দিল্লির এক রেস্তোরাঁ মালিক জানিয়েছেন, গত তিন দিনে গড়ে প্রতিদিন ৮০০টি খাবারের প্যাকেট জন্তর মন্তরে সরবরাহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে জানতে চায়, ঠিক কারা এই অর্ডারের পেছনে রয়েছে এবং কীভাবে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনস্থলে অসামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে খাবার সরবরাহ থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সুইগি ও জোম্যাটোর মতো অনলাইন খাদ্য সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও পুলিশের নজরদারি রয়েছে। বড় ধরনের অর্ডারের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও, এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।
জন্তর মন্তরের আশপাশের বেশ কিছু ক্যাফে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে খাবার ও জল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে পুলিশি জেরার মুখে অনেকেই নিজেদের সেই পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও অনেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছেন, খাবার সরবরাহের ওপর এই নজরদারি আন্দোলনের গতি স্তিমিত করার একটি কৌশল হতে পারে।
তবে দিল্লি পুলিশ ফুড ডেলিভারি পরিষেবা বন্ধের খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো অ্যাপ বা ডেলিভারি পরিষেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে বড় ধরনের সরবরাহের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে মাত্র। মূলত আন্দোলনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবেই দিল্লি পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস