মেধাসঙ্কটে ইসরো দক্ষ বিজ্ঞানী ধরে রাখা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার চেয়েও বর্তমানে সংস্থাটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের গণ-ইস্তফা। গত কয়েক মাসে শতাধিক দক্ষ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী সংস্থাটি ছেড়েছেন, যা ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের মহাকাশ বিভাগ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। গগনযানের মতো জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পগুলোতে কর্মরত বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসর ও পদত্যাগের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের মহাকাশ গবেষণার নিরবচ্ছিন্ন ধারা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই গণ-ইস্তফার পেছনে অন্যতম মূল অনুঘটক হলো ভারতের ক্রমবর্ধমান বেসরকারি মহাকাশ শিল্প। ২০২০ সালে এই খাতটি বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস এবং ধ্রুব স্পেসের মতো স্টার্টআপগুলো দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক বেশি বেতন, স্টক অপশন এবং কাজের ক্ষেত্রে অধিকতর স্বাধীনতার হাতছানি ইসরোর মেধাবী কর্মীদের আকৃষ্ট করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সরকারি কাঠামোর ধীরগতির আমলাতান্ত্রিক জটিলতার তুলনায় বেসরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ দিচ্ছে। এছাড়া ইসরোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মিশন, যেমন গগনযানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ও বিভিন্ন স্যাটেলাইট লঞ্চিং কার্যক্রমের সময়সীমা বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় গবেষকদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাক্তন অনেক বিজ্ঞানী এখন নতুন নতুন স্টার্টআপ গড়ে তুলছেন বা পরামর্শদাতা হিসেবে যোগ দিচ্ছেন, যা ইসরোর কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, নাসা বা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতো প্রকল্পভিত্তিক হাইব্রিড নিয়োগ মডেল গ্রহণ করা ইসরোর জন্য সময়ের দাবি। বর্তমান কর্মসংস্থান কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন না আনলে দেশের সেরা মেধাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা ইসরোর জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস