শরীয়তপুরে খাল পুনঃখননে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবন, ফিরেছে কৃষকের সেচ আর জেলের মাছ

একসময় এই খালই ছিল এলাকার মানুষের চলাচলের পথ। কৃষকের জমিতে পানি পৌঁছানোর অন্যতম ভরসা, আবার জেলেদের জীবিকারও বড় অবলম্বন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পলি জমে ভরাট হতে হতে একপর্যায়ে খালটি হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক প্রবাহ। বছরের পর বছর পানি না থাকায় থেমে যায় নৌকা, কমে যায় মাছ, আর সেচের পানির জন্য কৃষকদের নির্ভর করতে হয় বিকল্প ব্যবস্থার ওপর।

বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন ওয়ারেস্কার খালের সেই চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর খালটিতে ফিরেছে পানির প্রবাহ। কোথাও নৌকা চলছে, কোথাও খালের পানিকে ঘিরে কৃষকের নতুন পরিকল্পনা। দুই পাড়ে সবুজ বাড়াতে রোপণ করা হয়েছে ৭০০টি গাছ।

প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখননের পর শুধু পানির প্রবাহই ফেরেনি, স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ। কৃষকদের প্রত্যাশা, খালে পানি থাকায় সেচব্যবস্থা সহজ হবে। জেলেরা আশা করছেন, পানির প্রবাহ ফিরলে আবারও বাড়বে দেশীয় মাছের বিচরণ ও উৎপাদন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, খালটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় কৃষিকাজে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্ষা শেষে পানি শুকিয়ে গেলে সেচের জন্য বাড়তি খরচ করতে হতো। একই সঙ্গে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌপথের যোগাযোগও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এখন সেই খালে পানি থাকায় বদল এসেছে দৃশ্যপটে। খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা দেখছেন, দীর্ঘদিন পর তাদের পরিচিত জলপথটি আবারও ফিরে পেয়েছে তার পুরোনো রূপ।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, খালে পানি থাকায় তাদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরেছে। মাছ ধরা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে খালের পানি এখন আবার কাজে লাগছে।

এক কৃষক বলেন, কৃষিকাজের জন্য পানি পাওয়া ও সেচের ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় তাদের জন্য বড় সুবিধা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় জেলেদেরও প্রত্যাশা, পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকলে খালে মাছের পরিমাণ বাড়বে। এতে তাদের জীবিকার সুযোগও তৈরি হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন নাব্যতা হারিয়ে ফেলা খালগুলো পুনঃখননের ফলে পানির প্রবাহ ফিরছে। আরিয়াল খাঁ নদ থেকে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এই খালেও সারা বছর পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকদের সেচের জন্য গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

দেশজুড়ে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে খাল পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। যেসব খাল এখনও পানিপ্রবাহ হারিয়েছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষি, সেচ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

একটি খালের পুনঃখনন শুধু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনে না—এর সঙ্গে বদলে যায় একটি এলাকার কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও পরিবেশের চিত্র। ওয়ারেস্কার খালে পানির প্রবাহ ফিরে আসায় এখন সেই পরিবর্তনের অপেক্ষায় গোসাইরহাটের স্থানীয় মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, খালটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সচল রাখা গেলে এই জলপথকে ঘিরে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এলাকার অর্থনীতি ও জনজীবন।

0%
0%
0%
0%