বিসিবি নির্বাচনে বড় জয়ের অপেক্ষায় তামিম ইকবাল লক্ষ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে সুদিন ফেরানো

আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তামিম ইকবাল আসন্ন এই নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য অন্যতম প্রধান দাবিদার। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের কর্মপরিকল্পনা ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। গত দুই মাসে বিসিবির দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা এবং সব অংশীজনের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই সাবেক অধিনায়ক।
নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তামিম বলেন, যেকোনো নির্বাচনেই অনিশ্চয়তা থাকে, তাই কিছুটা স্নায়ুচাপ কাজ করলেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। গত দুই মাসে স্বল্প সময়ে তিনি যে পরিবর্তনের ধারা শুরু করেছেন, তা কাউন্সিলরদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণের জন্য সময় প্রয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণ মেয়াদের দায়িত্ব পেলে তিনি আগামী চার বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
নিজের দুই মাসের কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তামিম জানান, তিনি কেবল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন মাত্র। তবে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক বিষয় হলো খেলোয়াড়দের মানসিক প্রশান্তি। তার মতে, খেলোয়াড়রা এখন মাঠের বাইরে অন্য কোনো চাপ ছাড়াই কেবল নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবতে পারছে। বিসিবি প্রধানের কার্যালয় ব্যবহার না করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার মাধ্যমে তিনি একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের উদাহরণ স্থাপন করতে চেয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তামিম বলেন, কারো পিতৃপরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তার দক্ষতার মাপকাঠি হতে পারে না। মিরপুর স্টেডিয়ামের বোর্ডে বসার পর পরিচয় নির্বিশেষে সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়ন। নির্বাচনের মাধ্যমে যারা আসবেন, তাদের কয়েক মাস কাজের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও আস্থার সংকট দূর করাই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে আইসিসিসহ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনে তিনি বদ্ধপরিকর।
ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের সম্ভাব্য সফর সম্পর্কের বরফ গলাতে বড় ভূমিকা রাখবে। সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান বিসিবি প্রধান হিসেবে তিনি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছেন। আবেগপ্রবণ মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যক্তিগত অহং ও ক্রোধ বিসর্জন দিয়ে কেবল ক্রিকেটের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে দাবি করেন তামিম ইকবাল। আগামী দিনে তার লক্ষ্য, একজন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠের লড়াইয়ের মতোই ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসক হিসেবেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখা।