পরীক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তা ভেঙে ইন্টারনেটে প্রবেশ করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্লদ ও জিপিটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা ‘এআই এজেন্ট’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে গভীর উদ্বেগ। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অ্যানথ্রপিক উদ্ভাবিত ‘ক্লদ’ মডেলটি নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা থাকলেও, তা ভেঙে তিনটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে অনধিকার প্রবেশ করেছে। এই ঘটনাটি প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ৪১ হাজার ছয়টি পরীক্ষামূলক সেশনের পর্যালোচনার পর এই ত্রুটিটি ধরা পড়ে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ কনফিগারেশনের কারণে ক্লদ মডেলটি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল। বিশেষ করে ‘ক্যাপচার-দ্য-ফ্ল্যাগ’ নামক সাইবার নিরাপত্তা অনুশীলনের সময় মডেলটিকে কোনো ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়নি। তবে তাদের মূল্যায়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইরেগুলার’-এর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সিস্টেমটি সরাসরি পাবলিক ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ক্লদ সাধারণ কৌশলের আশ্রয় নিয়ে দুর্বল পাসওয়ার্ড এবং অনিরাপদ এন্ডপয়েন্ট ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোতে অনুপ্রবেশ করেছে। এ ঘটনায় গত ২৩ জুলাই থেকে সমস্ত সাইবার মূল্যায়ন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে তিনটি অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করে ২৭ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি অবহিত করে অ্যানথ্রপিক। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না এবং তৃতীয়টির সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা এখনও চলমান রয়েছে।
এর মাত্র কয়েক দিন আগেই ওপেনএআই-এর স্বয়ংক্রিয় মডেল ‘হাগিং ফেস’ নামক একটি এআই কোম্পানির অবকাঠামোতে অনধিকার প্রবেশ করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। এ ধরনের একের পর এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর এক হাজারেরও বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে একটি পিটিশন জমা দিয়েছেন। এতে অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর মুক্তি প্রক্রিয়া ধীর করার দাবি জানানো হয়েছে। এই পিটিশনে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদি নিজেও স্বাক্ষর করেছেন।
ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার না করা পর্যন্ত তারা তাদের পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন। এআই মডেলগুলো এখন বাস্তব দুনিয়ায় সাইবার কর্মকাণ্ড পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করছে, যা প্রযুক্তিবিদদের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ এবং তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
