AdvertisementAdvertisement

বিতর্কিত পশ্চিম সাহারায় ট্রাম্পের নামে মহাসড়ক নির্মাণে মরক্কোর কৌশলগত তৎপরতা

মরক্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নামকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন খোদ ট্রাম্প নিজেই। নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে সোমবার এক বার্তার মাধ্যমে মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেই মহাসড়কে ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে রাবাত আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য না করায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মরক্কো ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে ২০২০ সালে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কোর ওপর মার্কিন সমর্থন জোরালো হয়। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ইন্তিসার ফকিরের মতে, ট্রাম্পের প্রশাসনই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কোর দাবির প্রতি সুনির্দিষ্ট ও দৃঢ় সমর্থন প্রদান করেছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে মহাসড়কের নামকরণের এই সময়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা অথবা সম্প্রতি শেষ হওয়া অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প—উভয়ই এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত পশ্চিম সাহারার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করতেই মরক্কো এই বিশাল অঞ্চলজুড়ে একের পর এক রাস্তা, বন্দর ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলছে।

ট্রাম্পের নামে নামাঙ্কিত এই মহাসড়কটি তিজনিৎ থেকে দাখলা পর্যন্ত প্রায় ১,০৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারি মাসে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া এই মহাসড়কটি মরক্কোর দক্ষিণাঞ্চলকে মৌরিতানিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে। রাবাত মূলত ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যবর্তী কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যের একটি প্রধান গেটওয়ে হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চলা এই বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে মরক্কোর বিনিয়োগ কেবল সড়ক বা বন্দরে সীমাবদ্ধ নেই; সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি ও মৎস্য আহরণ শিল্পেও বড় অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রাপ্ত তথ্যমতে, পশ্চিম সাহারা রিসোর্স ওয়াচ গত বছর অঞ্চলটি থেকে প্রায় ২০ লাখ টন ফসফেট উত্তোলন করেছে। যদিও আলজেরিয়ার সমর্থিত পোলিসারিও ফ্রন্ট এই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম চালিয়ে আসছে, তবে মরক্কো এটিকে নিজেদের ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ’ হিসেবেই বিবেচনা করে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন প্রস্তাবের প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অক্টোবরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও মার্কিন সহায়তায় পাস হয়, যার তীব্র সমালোচনা করেছিল আলজেরিয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রিদে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় ও চতুর্মুখী আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের এই হিমায়িত সংকট সমাধানের পথে হয়তো নতুন কোনো বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%