রাশিয়া ও জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের বিল মার্কিন সিনেটে পাস

রুশ জ্বালানি রপ্তানির ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সদ্যপ্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রস্তাবিত এই বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬ বনাম ১২ ভোটে পাস হয়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক শুল্কের খড়্গ নেমে আসতে পারে, যারা মস্কোর কাছ থেকে নিয়মিত তেল ক্রয় করে আসছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে উপস্থিত থেকে এই ভোটাভুটির প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন এবং একে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সিনেটে বিশাল ব্যবধানে পাস হলেও বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিলটিতে ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ায় আইনি জটিলতা ও সময়ক্ষেপণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে যুক্ত করার বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন আদায়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সিডনির ইউএস স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ আল জাজিরাকে জানান, রাশিয়া ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটরা একমত হলেও ইরান থেকে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা আইইইপিএ-এর মাধ্যমে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জামের শীর্ষ পাঁচটি ক্রেতা দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে। এছাড়া, সরাসরি রুশ আমদানির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল।
চীনের মতো দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম প্রধান ক্রেতা হওয়ায় তাদের ওপর এই আইনের প্রভাব পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট সংকটের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ মায়া নিকোলাদজে জানান, জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ ছাড় বা ওয়েভার পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে তুরস্ক ও ব্রাজিলের মতো মিত্র দেশগুলোও রুশ জ্বালানি কেনায় তারাও এই কঠোর আইনের আওতাভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনটির বিরোধিতাকারীরা মনে করছেন, শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত মার্কিন ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ওপরই চাপবে। সিনেটর ম্যাগি হাসান সতর্ক করে বলেছেন, শুল্কের মাধ্যমে ইউক্রেনকে জয়ী করা সম্ভব নয়। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নতুন আইন হওয়ায় ট্রাম্পের আগের শুল্ক পদক্ষেপগুলোর তুলনায় এবার তা অধিকতর শক্তিশালী ও বৈধ ভিত্তি পাবে। প্রতিনিধি পরিষদের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে বিলটির ভাগ্য নির্ধারিত হবে, যা বিশ্ব ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
