দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা কানাডার

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হিসেবে অভিহিত করেছে কানাডা। বুধবার কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনবসতিতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে অটোয়া এমন মন্তব্য করল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে প্রায় ৭৬০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই হার অব্যাহত থাকলে বছরের শেষ নাগাদ হামলার সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা গত বছরের এক হাজার ৮৩৫টি হামলার পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে যাবে।
কানাডার এই বিবৃতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে ইসরায়েল কানাডার এই উদ্বেগকে ‘ভুল পথগামী’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং অটোয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ দেওয়ার’ অভিযোগ করেছে। পশ্চিম তীরকে ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, তারা ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদের মুখে টিকে থাকার লড়াই করছে।
এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ও (ওএইচসিএইচআর) পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও সম্মিলিত শাস্তির আহ্বানকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
সপ্তাহখানেক আগে ‘তাল’ গ্রামে এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বন্দুক কেড়ে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যার পর থেকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে পুঁজি করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ব্যাপক ধরপাকড় ও হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরায়েল ও কানাডার মধ্যে অধিকৃত ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চললেও সমালোচকদের মতে, কানাডা সরকার এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগে দৃশ্যমান কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে ছয়জন কানাডীয় আইনপ্রণেতাকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিল ইসরায়েল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
