ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের তীব্রতা হ্রাসের আভাস নতুন তাপপ্রবাহ নিয়ে প্রবল শঙ্কা

ফ্রান্স ও স্পেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দাবানলের ভয়াবহতা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলেও নতুন করে তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফ্রান্সের বর্দো এবং স্পেনের মাদ্রিদের মতো জনবহুল শহরের উপকণ্ঠে দাবানল মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করলেও দমকল বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে আগামী বুধবার নাগাদ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার পূর্বাভাস দেওয়ায় অগ্নিকাণ্ড আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ অঞ্চলে দাবানলের তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। লাকানো এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে মঙ্গলবার প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে জিরোন্দ অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আড়াই লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির জাতীয় দমকল বাহিনীর মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্দি জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও আগুন নেভানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে, যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিরোন্দের প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরণের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছেন।
স্পেনের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও আগুনের লেলিহান শিখা এখনো জনজীবনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসায় তোলেদো প্রদেশের ১১টি এলাকার মধ্যে ৯টির বাসিন্দারা মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফের্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, রাতের বেলা আগুন নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া গেছে। তবে দাবানলের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং দেশজুড়ে ১ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের পূর্বাঞ্চলীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবানলের ভয়াবহতাকে সিনেমার দৃশ্যের মতো বর্ণনা করে জানিয়েছেন, চারদিকে যেন লাল আগুনের নরক সৃষ্টি হয়েছিল। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই দাবানলকে জলবায়ু জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বেদনাদায়ক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতির পথে কিছুটা আলো দেখা যাচ্ছে, তবে নতুন করে ধেয়ে আসা তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। উভয় দেশেই বুধবার নাগাদ তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান আগুনকে পুনরায় প্রজ্বলিত করার পাশাপাশি নতুন করে দাবানল সৃষ্টির হুমকি তৈরি করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা