রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের সফল হামলা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে বড় অগ্রগতি

ইউক্রেনের ধারাবাহিক বিমান হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা এই আক্রমণে মস্কোর তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলো গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার ৫৩টি অঞ্চলে জ্বালানি তেল রেশন বা সীমিত আকারে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সব প্রতিশ্রুতি ছাপিয়ে যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত এখন রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বেশ কিছু পেট্রোল পাম্পে গ্রাহকপ্রতি ২০ লিটার পেট্রোল ও ৪০ লিটার ডিজেলের বেশি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যম কমারসান্ত জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট সামাল দিতে সরকার এখন নিম্নমানের ও উচ্চ সালফারযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হচ্ছে এবং এশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা করছে।

একই সময়ে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। গত সপ্তাহে কিয়েভ মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে ৪০০ কোটি ইউরো মূল্যের সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে, যা মূলত উন্নত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টর, দূরপাল্লার কামান এবং ড্রোন প্রযুক্তি সংগ্রহের জন্য ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি, জার্মানির সঙ্গে একটি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ৬০০ কোটি ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ ছাড় এবং কিয়েভের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকাগুলোও। বিশেষ করে মস্কোর প্রধান তেল শোধনাগারে দুবার ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই হামলায় সৃষ্ট কালো ধোঁয়া ও দূষণের কারণে মস্কোর ছয়টি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শোধনাগার ‘তানেকো’ এবং রকেট জ্বালানি প্রস্তুতকারী ‘তোলিয়াত্তিকাউচুক’ কারখানাতেও সফল হামলা চালিয়েছে কিয়েভ।

বিজ্ঞাপন

যদিও প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেছেন যে ইউক্রেনের এই আঘাতগুলো সাময়িক এবং রাশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তবে বাস্তবতা ভিন্ন। জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের অর্থনীতিবিদ জানিস ক্লুগ-এর তথ্যমতে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেট গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি বর্তমানে মোট সরকারি আয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে আছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হওয়া এবং যুদ্ধের বর্ধিত ব্যয় রাশিয়ার অর্থনীতিকে এক নজিরবিহীন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%