ইউক্রেন ও রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১১ জন নিহত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনীয় হামলায় আটজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং রাশিয়ার চালানো ড্রোন হামলায় সুমি অঞ্চলে তিন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাপোরিঝিয়ার রুশপন্থি গভর্নর ইয়েভজেনি ব্যালিতস্কি জানান, আজভ সাগরের তীরবর্তী কিরিলভকা গ্রামে অবকাশযাপন কেন্দ্রে ইউক্রেনের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে দুই শিশুসহ আটজন নিহত হন এবং তিন শিশুসহ আরও ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবেই বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কিয়েভ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে একটি বেসামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ গ্রিগোরভ জানিয়েছেন, এই হামলায় বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস ‘নোভা পোশতা’র তিন চালক নিহত হয়েছেন। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ আক্রমণের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
সংঘাতের এই উত্তাপ সীমান্ত পেরিয়ে রোমানিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ন্যাটোভুক্ত দেশ রোমানিয়ায় একাধিকবার রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, যা নিয়ে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।
চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত শুক্রবার জাপোরিঝিয়ার একটি শপিং সেন্টারে ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। একই দিনে কিয়েভের কাছে একটি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রদর্শনীতে ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা