জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত ভলকার তুর্ক

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে ভলকার তুর্ককে আরও চার বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৪৪টি দেশ তার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছে, যেখানে ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে তুর্ক ১৯৯৩ সালে পদটি সৃষ্টির পর প্রথমবারের মতো টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মানবাধিকার প্রধান হিসেবে ইতিহাস গড়লেন।
অস্ট্রিয়ার নাগরিক তুর্ক ২০২২ সাল থেকে এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাবনায় আয়োজিত এই ভোটাভুটির আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘ত্বরাণ্বিত ও ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তা স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছিল, অন্যদিকে রাশিয়া তুর্কের মেয়াদকাল চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সীমিত রাখার চেষ্টা চালায়। সাধারণ পরিষদ উভয় প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়েছে।
তুর্ক তার দায়িত্ব পালনকালে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তুর্কের নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় নিরপেক্ষতা হারিয়ে রাজনৈতিক উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি চুমাভক তুর্কের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ এনেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই ভোটাভুটি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে একে জাতিসংঘের ‘নিহিত দুর্নীতি ও অযোগ্যতার’ নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির উপ-রাষ্ট্রদূত জেফ বার্তোস সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এই পুনর্নিয়োগ সাধারণ পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। সমালোচকদের একাংশের মতে, মহাসচিব গুতেরেস তার নিজের মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন, যা পরবর্তী নেতৃত্বকে দুর্বল করতে পারে।
তবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফানি দুজারিক সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, মহাসচিব বিদ্যমান নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতার সাথে সদস্য দেশ ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সাথে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে যোগদানের পর থেকে মালয়েশিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায় তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সোচ্চার অবস্থানই তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে নিশ্চিত জয় এনে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা