১৭ বছর পর সিরিয়া সফরে জাতিসংঘ মহাসচিব গুটেরেস

সিরিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক যুগান্তকারী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দামেস্কে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর জাতিসংঘের কোনো মহাসচিবের এটিই প্রথম সিরিয়া সফর। শনিবার সকালে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি।
সফরকালে মহাসচিব সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট আল-শারাআ অতীতে আল-কায়েদার একজন কমান্ডার ছিলেন এবং গত বছর পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। ২০২৪ সালে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর ক্ষমতা গ্রহণ করা আল-শারাআর জন্য এই সফরটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দামেস্কে অবস্থানকালে গুতেরেস পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করবেন। আগামী সোমবার দেশটির নতুন পার্লামেন্টে মহাসচিবের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির উত্তরণ এবং দেশটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা।
মহাসচিবের সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গোলান মালভূমিতে নিয়োজিত জাতিসংঘ ডিসএনগেজমেন্ট অবজারভার ফোর্স বা ইউএনডিওএফ-এর কার্যক্রম পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলি পালনের বিষয়টি তদারকির লক্ষ্যেই এই পরিদর্শন পরিচালিত হবে। জাতিসংঘ মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিকের ভাষ্যমতে, মহাসচিব এই সফরের মধ্য দিয়ে সিরিয়ার সামনে থাকা নতুন সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করতে চান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দামেস্কে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র অবস্থানকালীন হোটেলের কাছে জোড়া বোমা হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত আইসিল বা আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট চক্রটিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গুতেরেসের দামেস্ক সফর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা