বিএসটিআইয়ের হালাল সনদ নিয়ে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটি্আই থেকে হালাল সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ ও যানবাহন দাবির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণে হালাল’ শীর্ষক এক কর্মশালায় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন যে, সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও হয়রানিমূলক। এই জটিলতা নিরসনে তারা অবিলম্বে হালাল সনদ বিনা মূল্যে প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
বিসিআইয়ের পরিচালক ও ইজি ফুডের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার অভিযোগ করে বলেন, হালাল সনদ পেতে গেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনৈতিক চাঁদা ও যানবাহনের দাবি করা হয়। এছাড়া রপ্তানির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে অযৌক্তিক হারে মাশুল আদায়ের বিষয়টি পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এত উচ্চহারে মাশুল প্রদানের বাধ্যবাধকতার কারণে বিদেশি ক্রেতারাও এখন স্থানীয় সনদের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন।
বোম্বে সুইটস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশেদ আলম জানান, অতীতে হালাল সনদের জন্য ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত মাশুল দিতে হতো, যা বর্তমানে কিছুটা কমানো হলেও তা এখনো ব্যবসায়ীদের জন্য বোঝা। এছাড়া বিএসটি্আই থেকে প্রদত্ত সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংকট থাকায় সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পণ্য রপ্তানিতে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুর থেকে সনদ গ্রহণ করতে হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ৮৫ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, অথচ বিশ্ববাজারে এর চাহিদা কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০৩৪ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে হালাল পণ্যের চাহিদা ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিশাল বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের যথাযথ ব্র্যান্ডিং এবং সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন জরুরি বলে তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সনদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য ও সমন্বয়হীনতা দূর করা আবশ্যক। অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা বিএসটি্আই ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে একক কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়ে এসে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালুর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।