বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিপিএএমইএ নির্বাচন স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিপিএএমইএ-এর নির্বাচন স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আগামী শনিবার নির্ধারিত ভোট গ্রহণের আগেই এই আদেশের ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া থমকে গেল।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সোমবার একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযোগকারীদের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২০২৬-২৮ মেয়াদের এই নির্বাচন স্থগিত থাকবে।
এর আগে নির্বাচনে ২৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের ৬ সহসভাপতি ও ১৫ জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আগামী শনিবার সভাপতি পদ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ জন পরিচালকের পদে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। এতে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও আদজি ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহরিয়ার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রিটানিয়া লেবেল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিল আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জামিল আহমেদ এবং পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল বাণিজ্য সংগঠনের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পরপর দুইবার পর্ষদে দায়িত্ব পালন করলে তৃতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। মো. শাহরিয়ার এবং দ্বিতীয় সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা এই বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে দাবি করা হয়। এছাড়া ঋণখেলাপিদের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়।
এর আগে বিপিএএমইএ-এর নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড এ অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়েছিল। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ূব দাবি করেন, গত বছরের মে মাসে জারি করা বিধিমালা ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগের সুযোগ নেই, তাই প্রার্থীদের প্রার্থিতা বৈধ ছিল। তবে মন্ত্রণালয় বর্তমানে বিষয়টি সুরাহার জন্য আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের ওপরই দায়ভার ন্যস্ত করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় সভাপতি প্রার্থী মো. শাহরিয়ার অভিযোগ করেন, একটি মহল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বানচালের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীকেই ডাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমান সংকটময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।