AdvertisementAdvertisement

কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তাগিদ জেলেনস্কির

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনীয়দের নিরাপত্তা পুরোপুরি নির্ভর করছে পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের সদিচ্ছার ওপর। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ১৮ মিনিটে রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে কিয়েভ। রুশ এই ভয়াবহ হামলায় রাজধানী শহরের বেশ কিছু অ-আবাসিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।

কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতের পরপরই একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হয় রাজধানী। পরিস্থিতি বিবেচনায় মেয়র ক্লিচকো শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। মূলত রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিই ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্মত হয়েছেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে ট্রাম্প এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। তবে বাস্তবতা হলো, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা একমাত্র মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমেরই রয়েছে, যার পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে ইউক্রেনে। ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে এই সরঞ্জামের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক স্থায়ী বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। বৈঠকে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমাগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি দূরপাল্লার হামলার তীব্রতা বাড়ছে। অথচ ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো স্থবির হয়ে আছে। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্কের নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে ইউক্রেনীয় হামলার সম্ভাবনাকে যুদ্ধ অবসানের পথ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%