দুর্নীতি দমনে নতুন হেল্পলাইন চালু মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশে এক লক্ষ কর্মী নিয়োগের ঘোষণা

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে আরও একধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য সরকার। কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ এবং বেআইনি কারবারের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করতে এবার সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দুপুরে ভবানী ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে চারটি নতুন টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের বাসিন্দারা এখন দিন-রাতের যে কোনো সময় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিজেদের অভিযোগ পৌঁছে দিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নবান্নে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে এই অভিযোগগুলো তদারকি করা হবে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে এই হেল্পলাইনগুলো। সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রতিকারের জন্য আলাদা নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য ১৫৫৩৩৪, সিন্ডিকেটরাজ ও দুর্নীতির জন্য ১৫৫৩৩৫, অবৈধ গাড়ি থেকে টোল আদায়ের বিরুদ্ধে ১৫৫৩৩৭ এবং বেআইনি মদের কারবারের তথ্য দিতে ১৫৫৩৩৯ নম্বরে ফোন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বালি, পাথর ও সিমেন্টের সিন্ডিকেট রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভারতর মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি ফোন রেকর্ড করা হবে এবং প্রাথমিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধার সহায়তা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে পুলিশ আধিকারিকরা প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক লক্ষ নতুন কর্মী নিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরপ্রদেশের আদলে পুলিশের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং মহিলা কর্মীদের বাড়ির কাছাকাছি পোস্টিং দেওয়ার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এদিকে, প্রথমবারের মতো ভারতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হতে যাচ্ছে জনগণনা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা স্ব-শুমারি বা সেলফ এনুমারেশনের মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের তথ্য নথিবদ্ধ করার সুযোগ পাবেন। এজন্য নির্ধারিত পোর্টাল ওয়েবসাইটে লগ ইন করে নিজস্ব তথ্য জমা দিতে হবে। তথ্য জমার পর নাগরিকদের একটি এগারো অঙ্কের স্বতন্ত্র ‘এসই আইডি’ প্রদান করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে বাড়ি আসা জনগণনা কর্মীদের দেখাতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জনগণনার এই প্রক্রিয়াটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ চলবে, যেখানে আবাসন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় পর্যায়ে নাম, বয়স, জাতি ও ধর্মসহ বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে। ডিজিটাল শুমারি প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রকৃত তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%