AdvertisementAdvertisement

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বিতর্ক ও নতুন প্রশ্ন রেখে পর্দা নামল ২০২৬ বিশ্বকাপের

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও এর প্রভাব ও বিতর্ক নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। ৪৮ দলের বিশাল কলেবরের এই আসর বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেছে। যদিও রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভিসা জটিলতা এবং মাঠের বাইরের নানা সমীকরণ এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই শিরোনাম দখল করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবলের নান্দনিকতা ও মাঠের লড়াইয়েই সব মনোযোগ নিবদ্ধ হয়েছে।

টুর্নামেন্টের দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা টুর্নামেন্ট শেষে অমূলক বলেই প্রমাণিত হয়েছে। কেইপ ভার্দের মতো নবাগত দলের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স এবং শীর্ষ দলগুলোর সাথে ব্যবধান কমে আসার চিত্রটি ফুটবলের বিশ্বায়নেরই ইঙ্গিত দেয়। আয়োজক ফিফার দাবি, এই সম্প্রসারণ ফুটবলের প্রসারে এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। এখন ২০৩০ সালের আসরে ৬৪ দল নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরির গুঞ্জন চলছে, যা চূড়ান্ত পর্বে বড় কোনো পার্থক্য তৈরি না করলেও অনেক দেশের জন্যই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নকে আরও সুগম করবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। প্রবল গরমের কারণে এই বিরতির প্রয়োজন থাকলেও স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বারবার দুয়ো ধ্বনি শোনা গেছে, কারণ হিসেবে দর্শকরা মনে করেন এটি খেলার গতি নষ্ট করে এবং বাণিজ্যিক বিরতির সুযোগ তৈরি করে। এ ছাড়া মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড সংক্রান্ত বিতর্ক ফিফার নিয়মনীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে শাস্তির মেয়াদ স্থগিত হওয়ার ঘটনাটি ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফুটবল ফাইনালে যেন কৌশলী রক্ষণ আর ‘ডার্ক আর্টস’ বা চোরাগোপ্তা ফাউলের প্রবণতা জেঁকে বসছে। আর্জেন্টিনা ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলের খেলার ধরনে কৌশলগত ফাউলের যে প্রভাব দেখা যায়, তা আধুনিক ফুটবলের সৌন্দর্যকে আড়াল করছে। পিয়েরলুইজি কোলিনার মতো কঠোর রেফারির অভাব বোধ করছেন বিশেষজ্ঞরা, যারা খেলার শুরুতেই কঠোর হাতে নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন। ফিফার উচিত এই প্রবণতা রুখে দিয়ে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনা।

সহ-আয়োজক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই বিশ্বকাপ ভিন্ন মাত্রা বয়ে এনেছে। কানাডায় ফুটবল উন্মাদনা বেড়েছে, মেক্সিকোর ঐতিহাসিক সাফল্য উল্লাসের সাথে কিছুটা বিষাদও নিয়ে এসেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘরোয়া লিগ ও ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এক ধাপ এগিয়েছে। লিওনেল মেসির মতো তারকার উপস্থিতিতে মেজর লিগ সকার বা এমএলএস এখন আরও শক্তিশালী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য প্রয়োজন নিজস্ব কোনো বিশ্বমানের সুপারস্টার। ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞ শেষে এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ ভবিষ্যতের নতুন সব চ্যালেঞ্জ ও রোমাঞ্চকর আয়োজনের দিকে।

0%
0%
0%
0%