ফুটবল বিশ্বকাপে নতুন যুগের হাতছানি ২০৩০ আসরে ৬৪ দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে ফিফার বড় উদ্যোগ

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আবারো বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে ফিফা। ২০২৬ সালের ফুটবল মহাযজ্ঞে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার পর, এবার ২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপকে ৬৪ দলের আসরে রূপান্তরের সম্ভাবনা যাচাই করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফিফা। সংস্থাটি মূলত যাচাই করবে যে, বিশ্বকাপের পরিধি ৬৪ দলে উন্নীত করলে টুর্নামেন্টের মান, খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সূচিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল গত বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ৬৪টি দল অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল। শতবর্ষী এই আসরকে আরও বেশি দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দিতেই মূলত এমন প্রস্তাবনা তাদের। তবে ফিফার এই ভাবনাটি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিনসহ ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্তারা শুরু থেকেই এমন সম্প্রসারণের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফিফার নথিপত্র অনুযায়ী, নিয়োগকৃত স্বাধীন সংস্থাটি আগামী ১৪ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করবে এবং ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব নিরূপণ করা। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ এবং মিডিয়া রাইটস থেকে কতটুকু বাড়তি রাজস্ব আয় সম্ভব, তাও খতিয়ে দেখা হবে। তবে কেবল আর্থিক মুনাফাই নয়, বরং এই বাড়তি দলগুলো যোগ করলে টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা এবং স্থায়িত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে কি না, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
২০২৬ সালের আসরটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ১০৪টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই তুলনায় ২০৩০ সালের বিশ্বকাপটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন যৌথভাবে এই আসরের মূল আয়োজক হলেও, বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তিকে স্মরণীয় করতে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। একদিকে ফুটবল বিশ্বের মহাযজ্ঞের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা, অন্যদিকে বাইরের বিনিয়োগকারীদের সাথে ফিফার নতুন করে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়ে উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিই এখন ফুটবল কূটনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
