AdvertisementAdvertisement

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার নজিরবিহীন বিস্তার ও প্রাণহানি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দেশটির যোগাযোগ ও গণমাধ্যম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩২ জন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের এই দ্রুত বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউ। রয়টার্সের সাথে আলাপকালে তিনি বিশ্ববাসীকে এই পরিস্থিতির দিকে আরও নিবিড় নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মৃত্যুর হারকে ৪৪.১ শতাংশে উন্নীত করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৮০৭ জন রোগী আইসোলেশন কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, আগের প্রাদুর্ভাবগুলোর তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, কারণ গত তিন মাসে এই রোগ আগের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের কারণে ছড়ানো এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। পরিস্থিতির অবনতির পেছনে নিরাপত্তা সংকট, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা এবং বিদেশি সহায়তায় ব্যাপক ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় কঙ্গোর পাঁচটি প্রদেশ—হউত-উয়েলে, ইচুরি, নর্থ কিভু, সাউথ কিভু এবং শোপো এখন এই ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয় জনগণের অনাস্থা এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বুনিয়া শহরের দাতব্য সংস্থা কারিটাসের জরুরি সেবার প্রধান অ্যাঞ্জেল গাপিও জানিয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা আশানুরূপ কাজ করছে না, কারণ সাধারণ মানুষ এখনও প্রচলিত কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে চার গুণ বেশি হতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় আফ্রিকা সিডিসি এখন ১.৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে, যা পূর্বের অনুমানের চেয়ে তিন গুণ বেশি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%