AdvertisementAdvertisement

দুই দশক আগের সেই স্মৃতি হাতড়ে আবারও বিশ্বমঞ্চের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা

২০০৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সময়কালটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ার মাটিতে আয়োজিত সেই পুরুষ বিশ্বকাপ ছিল ক্রিকেট উন্মাদনায় ঠাসা। টুর্নামেন্টের প্রতীক ‘ড্যাজলার’ নামের জেব্রাটি তখন পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে স্বাগতিক সমর্থকদের জন্য টুর্নামেন্টের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে ব্রায়ান লারার ১১৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সামনে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ রানে পরাজিত হয়। সেই ম্যাচে মাকায়া এনটিনি লারাকে আউট করার গৌরব অর্জন করলেও তার জীবনের সেরা স্মৃতি হয়ে আছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকা বহন করার সেই অনন্য মুহূর্ত।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মর্মান্তিক স্মৃতি লুকিয়ে আছে ডারবানের কিংসমিডে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টিভেজা সেই রাতে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে স্কোর সমান হওয়ায় ম্যাচটি টাই হয়, যার ফলে শন পোলকের দল প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হয়। এই ঘটনা আজও এনটিনির স্মৃতিতে ক্ষত হয়ে আছে, যিনি মনে করেন এমন ভুল যেন ভবিষ্যতে আর কখনোই না ঘটে। অথচ একই টুর্নামেন্ট তরুণ হাশিম আমলার মতো খেলোয়াড়দের মনে দারুণ প্রভাব ফেলেছিল; ১৯ বছর বয়সী আমলা তখন তার আদর্শদের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যা তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কাগিসো রাবাদার স্মৃতিতে ২০০৩ বিশ্বকাপ মানেই রিকি পন্টিংয়ের ফাইনালের সেঞ্চুরি, লারার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং কিংবা শোয়েব আখতারের গতির ঝড়। নিউল্যান্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শোয়েব আখতারের সেই ঐতিহাসিক ডেলিভারিটি ছিল ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতির, যা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের শিহরিত করে। যদিও টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট নিয়েছিলেন চামিন্দা ভাস, তবে গতির ঝড়ে সবার নজর কেড়েছিলেন শোয়েব আর ব্রেট লি। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার দাপটের সামনে ভারতের পরাজয় এবং পন্টিংয়ের অপরাজিত ১৪০ রানের ইনিংসটি টুর্নামেন্টের শেষলগ্নে এক অন্যরকম মাত্রা যোগ করেছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পার করে পুরুষ বিশ্বকাপ আবারও ফিরছে এই অঞ্চলে। আগামী বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ার আটটি ভেন্যুতে আয়োজিত হতে যাওয়া এই আসর ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। সম্প্রতি জোহানেসবার্গের ইনান্দা ক্লাবে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের ভেন্যু নিশ্চিত করা হয় এবং এর দৃষ্টিনন্দন লোগো উন্মোচন করা হয়। মাকায়া এনটিনি, তেম্বা বাভুমা, হাশিম আমলা ও কাগিসো রাবাদার উপস্থিতিতে সেই আয়োজনে ছিল গান, নাচ আর উৎসবের আমেজ। সবকিছু মিলিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব আবারও প্রস্তুত হচ্ছে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হওয়ার জন্য।

সম্পর্কিত- ক্রিকেট খবর
0%
0%
0%
0%