রাশিয়া ও ইউক্রেনে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহতের ঘটনায় উত্তপ্ত সীমান্ত অঞ্চল

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে উভয় প্রান্তেই প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের নিকোপোল জেলায় রুশ বাহিনীর হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দ্র গানঝা জানিয়েছেন, ড্রোন, কামানের গোলা ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা ব্যবহার করে ওই অঞ্চলে ২০ বারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রে বোচারভ। এছাড়া রোস্তভ অঞ্চলের গুকোভো শহরে আরও এক নারী ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর ইউরি স্লিুসারের কার্যালয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্বীকার করেছেন যে, তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে লজিস্টিক সেন্টার ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে সুদূরপ্রসারী হামলা জোরদার করেছেন। তার দাবি, রুশ যুদ্ধযন্ত্রের সক্ষমতা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে বারবার হামলার কৌশল গ্রহণ করেছে ইউক্রেন, যার উদ্দেশ্য দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া। এই কৌশল রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে, যার ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশটি এখন বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির বাধ্যবাধকতায় পড়েছে। এছাড়া আজভ সাগরের উত্তর দিকে রুশ সরবরাহ লাইন ব্যাহত হওয়ায় দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ব্যাপক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ লাখ বিক্রেতাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, ওদেসা বন্দরের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি কার্গো জাহাজে তারা সফল হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দোনেৎস্ক অঞ্চলের স্তিনকি এবং খারকিভ অঞ্চলের ভিরিভকা এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছে মস্কো। তবে যুদ্ধের এই ক্রমবর্ধমান রেশ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে রাশিয়ার শস্য রপ্তানিকারক ও উৎপাদনকারী ইউনিয়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে খাদ্যশস্য রপ্তানি করিডোর পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতি চললে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়বে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
