চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত নেতাকর্মীদের বাড়িতে খোঁজখবর নিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। গত শনিবার সোনাইছড়ি, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকায় আয়োজিত সহানুভূতি সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই খোঁজখবর নেন এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানান।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এই পরিস্থিতি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতে রূপ নেয় এবং বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হলে বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীদের বহনকারী শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে।
সহানুভূতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোককে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কারও ক্ষোভ বা মতপার্থক্য থাকলে তা সাংগঠনিক বৈঠকে সমাধান করতে হবে এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে দল কঠোর অবস্থানে থাকবে।
কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম মুকুল অভিযোগ করেন যে নারী নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িসহ অন্তত পাঁচটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া হামলায় আহত এক নারী নেতাকর্মী দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন একটি নির্দিষ্ট পক্ষের নাম ব্যবহার করে তাদের গাড়ি থামিয়ে মারধর করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো মোরসালিন নেতাকর্মীদের সমান্তরাল গ্রুপিং পরিহার করে মূলধারার সংগঠনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে ককটেল বিস্ফোরণ, অস্ত্র প্রদর্শন ও গাড়ি ভাঙচুরের এই ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত সাংগঠনিক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।