সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ৩২০ মিটার দীর্ঘ সেতুর প্রবেশদ্বারে থাকা শহীদ আয়াতুল্লাহর নামসংবলিত সাইনবোর্ড রাতের আঁধারে কালো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সকালে সেতু এলাকায় স্থানীয়রা এই দৃশ্য দেখতে পেলে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা আলোচনা শুরু হয়।
নিহত ১৯ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ উপজেলার চামারদানী ইউনিয়নের জলুষা গ্রামের হাজি সিরাজুল ইসলাম ও শোভা আক্তার দম্পতির ছোট ছেলে ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বড় ভাই সোহাগ মিয়ার সঙ্গে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিতে নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
শহীদ আয়াতুল্লাহর স্মৃতি অমর রাখতে স্থানীয় ছাত্র-জনতার উদ্যোগে সোমেশ্বরী নদীর সেতুর প্রবেশমুখে তার নামে ওই সাইনবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার সকালে সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায় যে, দুর্বৃত্তরা সাইনবোর্ডের মাঝের অংশ থেকে শহীদ আয়াতুল্লাহর নামটি সম্পূর্ণ কালো রঙ দিয়ে মুছে দিয়েছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় জুলাইযোদ্ধা ও নিহতের পরিবার একে জুলাইবিরোধী শক্তির হীন চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান এবং পাশাপাশি সোমেশ্বরী সেতুটিকে সরকারিভাবে শহীদ আয়াতুল্লাহর নামে নামকরণের দাবি উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন জানান যে, সাইনবোর্ড থেকে নাম মুছে ফেলার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।