খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদের কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী শেওড়া গ্রামে লোকচক্ষুর অন্তরালে অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কান্তরাম মণ্ডলের জমিদার বাড়ি। অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে সুন্দরবন আবাদ করে কান্তরাম মণ্ডল এই জমিদারির গোড়াপত্তন করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। প্রাচীন এই স্থাপত্যটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
দুই তলা বিশিষ্ট এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটিতে মোট ১০টি কক্ষ রয়েছে। সুদীর্ঘ বছর ধরে বাড়িটি সংস্কার না করার কারণে এর দ্বিতীয় তলার ছাদে বড় ধরনের ভাঙন ধরেছে এবং ছাদজুড়ে নানা প্রজাতির আগাছা জন্ম নিয়েছে। সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে পুরো ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে বেঁচে থাকা বংশধরদের মধ্যে কান্তরাম জমিদারের চতুর্থ প্রজন্মের একমাত্র নাতি ৯১ বছর বয়সি অশ্বিনী মণ্ডল জীবনের এই শেষ সময়েও ঐতিহাসিক এই বাড়িটির স্মৃতি আঁকড়ে ধরে একা বসবাস করছেন। স্থানীয় শেওড়া গ্রামের বাসিন্দা অহিদুল আলম জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসররা কান্তরাম জমিদারের এই বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়েছিল। আজও বাড়িটির গায়ে থাকা দেওয়ালের অসংখ্য গুলির দাগ সেই ভয়াল দিনের বর্বর হামলার নীরব স্মৃতি বহন করে আসছে।
যথাযথ প্রচার ও সংরক্ষণের অভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি নিদর্শনটি দ্রুত রক্ষা করার জন্য এলাকার সচেতন সুধীজনরা সংশ্লিষ্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে কান্তরাম জমিদার বাড়ির সঠিক পরিচয় এতদিন তাদের অজানা ছিল এবং দ্রুত বাড়িটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।