কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ধানকাটার শ্রমিক সেজে বাড়িতে প্রবেশ করে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। গত ৩ মে সকালে উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুন নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহতের পরিবার ও পিবিআই সূত্র জানায়, আসামিরা পূর্বে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে পোশাক কারখানায় একসঙ্গে কাজ করতেন এবং পরবর্তী সময়ে ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে অবস্থান নেন। ঘটনার দিন ঠিকমতো ধান কাটতে না পারা এবং ধান নষ্ট করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে গভীর রাতে আসামিরা বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে তাকে হত্যা করেন এবং নগদ সত্তর হাজার টাকা ও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে চান্দিনা থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের হাতে ন্যস্ত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১২ থেকে ১৫ মে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীফুল ইসলাম শান্ত ও আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং এ ঘটনায় জড়িত আরও এক আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার।