ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে তিতাস নদী রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে ভরাটের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এই অবৈধ নদী দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। গত শনিবার নদীর পানির নিচ থেকে বালু জেগে উঠলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে।
অবৈধভাবে নদী ভরাটের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, নবীনগর থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের যৌথ উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নদী দখল ও ভরাটের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম জানান, আইনগতভাবে নদী দখল বা ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থলে সত্যতা নিশ্চিত করে পরিবেশ ও জলধারা আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নদীতে ফেলা সমস্ত বালু নিজ দায়িত্বে অপসারণ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকেই অভিযুক্ত ফরিদ আহমেদ এই নদী ভরাটের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় এই ভরাট কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন যে তিনি নিজের ক্রয়কৃত জমিতেই বালু ভরাট করছেন এবং ভূমি অফিসে এটি নাল জমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
এদিকে দেশের অন্যতম প্রধান এই নৌপথ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তিতাস নদী দিয়ে প্রতিদিন লঞ্চ, যাত্রীবাহী নৌকা, স্পিডবোট এবং খাদ্য গুদামসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী কার্গো চলাচল করে। কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা এই গুরুত্বপূর্ণ নদী রক্ষায় এবং নদী দখলের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।