নাটোরের বড়াইগ্রামে সমতল ভূমিতে আনারস চাষে কৃষকের অভাবনীয় সাফল্য

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি ফল আনারস চাষ করে দারুণ সফলতা অর্জন করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তার বাগানের পাকা আনারস বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের এই আনারসগুলো দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি বেশ মিষ্টিও। তার এই ব্যতিক্রমী সফলতা দেখে এলাকার বহু কৃষি উদ্যোক্তা প্রতিদিন তার আনারস বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।

কৃষক রফিকুল ইসলাম মল্লিকপুর বিলে ১০ কাঠা জমিতে এই আনারসের চাষ করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো জমিজুড়ে সারি সারি গাছে পাকা ও আধাপাকা আনারস ঝুলছে। রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে বাজারে আনারস কিনতে গিয়ে তার মনে এ ফল চাষের আগ্রহ জন্মায়। এর দেড় বছর আগে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে দেড় হাজার আনারসের চারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। কিছু চারা মারা গেলেও এবং কিছু গাছে এবার ফল না ধরলেও কমপক্ষে এক হাজার গাছে এবার আনারস ধরেছে। তার বাগানে মূলত ক্যালেন্ডার ও জায়েন্ট কিউ জাতের আনারস চাষ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জমিতে আনারসের চারা লাগানোর এক বছর পর ফুল আসতে শুরু করে এবং ফল ধরার চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে তা পেকে ওঠে। এবার তার প্রায় সব গাছে প্রথমবারের মতো আনারস ধরেছে এবং ইতোমধ্যে বাগানের বেশিরভাগ আনারসের পাকা ফল বাজারে বিক্রিও করা হয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুতে কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হয়। গাছের চারাগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠলেও একপর্যায়ে গোড়া পচা রোগ দেখা দেয়ায় কিছু গাছ মারাও যায়। জেলায় প্রথমবারের মতো আনারস চাষ হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষসহ কৃষি উদ্যোক্তারা নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শনে আসছেন।

আনারস চাষের খরচের হিসাব দিয়ে রফিকুল জানান, এ ফল চাষে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, পানি সেচ এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। তবে আনুপাতিক হারে এর উৎপাদন খরচ বেশ কম। দেড় হাজার চারা কিনে বাড়ি আনা পর্যন্ত তার খরচ হয় ছয় হাজার টাকা। এছাড়া চারবার নিড়ানিতে ছয় হাজার টাকা, সার ও কীটনাশক বাবদ দেড় হাজার টাকা এবং সেচ বাবদ ছয়শত টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে পাঁচশত পিস আনারস বিক্রি করেছেন যার মোট মূল্য পঁচিশ হাজার টাকা। বর্তমানে বাগানে আরও তিন শতাধিক আনারস রয়েছে। তবে এর মধ্যেই রাতের আঁধারে বাগান থেকে কে বা কারা আরও শতাধিক পাকা আনারস চুরি করে নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদন খরচ আরও কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বাড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ভরতপুর গ্রামের আকবর আলী বলেন, পাহাড়ি এলাকার ফল হওয়ায় প্রথমে বিশ্বাস না হলেও মল্লিকপুর গ্রামে রফিকুল ইসলামের আনারস চাষের কথা শুনে তারা নিজের চোখে দেখতে আসেন এবং কিছু আনারস কিনেও নিয়ে যান। তাদের মতে, এই আনারসগুলো খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ জানান, এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের সম্পূর্ণ উপযোগী বলেই প্রতীয়মান হয়। প্রাথমিকভাবে বড়াইগ্রাম উপজেলায় আনারস চাষে দারুণ সফলতা পাওয়া গেছে এবং স্থানীয় কৃষকদের আনারস চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

০%
০%
০%
০%