ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপ উপকূলে শনিবার ভোরে আঘাত হেনেছে ৭.৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপকূলীয় এলাকায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কম্পনের তীব্রতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উচ্চ ভূমির দিকে ছুটে গেছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউজিএসজি এবং ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূল থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের খুব অগভীর অবস্থানে এই ভূকম্পনটির উৎপত্তি হয়। মূল কম্পনের পরপরই ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী আফটারশকসহ বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিপর্যয়ের পরপরই ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপ্রাকৃতিক সংস্থা বিএমকেজি উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করে। পূর্ব নুসা টেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং পশ্চিম নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে ০.৫ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় উপকূলবাসীকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর পরবর্তী সময়ে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঘুমের সময় ভবন ধসে চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। যদিও দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বিএনপিবি প্রাথমিকভাবে একজনের মৃত্যু ও চারজন আহতের তথ্য দিয়েছিল, তবে উদ্ধারকাজ চলার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরের বিভিন্ন ভবন ও হাসপাতালে ফাটল দেখা দিয়েছে, যার ফলে আতঙ্কে রোগীরা হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বড় বড় স্থাপনা কেঁপে উঠতে দেখা গেছে। এছাড়া নাজেও জেলার প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপিবি-এর কর্মকর্তা আবদুল মুহারি উপকূলীয় বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, সমুদ্র উপকূল থেকে অন্তত ২ কিলোমিটার দূরে অথবা ৩৩ ফুট তথা ১০ মিটারের বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বাসিন্দাদের আশ্রয় নিতে হবে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূকম্পন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। দেশটিতে ২০০৪ সালের সুমাত্রার ভয়াবহ ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনও দগদগে, যেখানে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।