চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে এক হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া স্বাস্থ্য সহকারী রাশেদা বেগমকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
মাত্র ঊনত্রিশ বছর বয়সে ডেঙ্গুর কাছে হেরে যাওয়া এই তরুণী মায়ের জানাজা শেষে তাঁকে চিরবিদায় জানানো হয়। দাফনের আগে শোকার্ত স্বামী আমিরুল হোসাইন দুই অবুঝ শিশুকে চট্টগ্রাম শহরের এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে সন্দ্বীপে আসেন।
মৃত রাশেদা বেগমের বড় ছেলে আতেফের বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর এবং ছোট ছেলে আদিয়ান পৃথিবীর আলো দেখেছে মাত্র এক মাস আগে। গত পাঁচ আগস্ট সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পেশায় কলেজশিক্ষক স্বামী আমিরুল জানান, প্রসবকালীন ধকলের কারণে রাশেদা শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল থাকায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিরোধক্ষমতা তার শরীরে ছিল না। মশার উপদ্রব থাকা দক্ষিণ কাট্টলিতে স্বামীর ভাড়া বাসায় আসা-যাওয়ার মাধ্যমেই তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গুর এমন মৃত্যু যেন আর কারও না হয়, সেজন্য সরকারের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন শোকাহত আমীরুল ও তার পরিবার। রাশেদার এই অকাল মৃত্যুতে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।