যশোর শহরের পিটিআই হলরুমে আয়োজিত একটি চাকরি মেলার সেমিনারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, প্রবীণ বাবা-মাকে আইনি সুরক্ষা দিতেই ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আয়োজনে দিনব্যাপী এই চাকরি মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত চাকরিপ্রত্যাশী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের এই সংশোধনী নিয়ে বর্তমানে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জোরালোভাবে বলেন যে, পবিত্র হেবা আইন স্পর্শ করার ক্ষমতা ইহজাগতিক কারও নেই এবং এই সংশোধনীকে হেবা আইনের লঙ্ঘন বলে তোলা সকল অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
মন্ত্রী আরও জানান যে, এই সংশোধনী হেবা আইনসহ অন্য যেকোনো প্রচলিত আইনের অধীনে দান, উইল বা অন্য কোনো উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি বাধা সৃষ্টি করবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, আইনের সংশোধনীর এই সুনির্দিষ্ট অংশটুকু না পড়েই একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে জনমনে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মেলাটিতে ৩৭টি স্বনামধন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দিনব্যাপী চলা এই আয়োজনে মোট ২২ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাইকৃত এক হাজার ১১৫ জনকে চূড়ান্ত চাকরি দেওয়া হয় এবং নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রধান অতিথির হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।