নাইজারে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ফ্রান্সের হাত থাকার অভিযোগ জান্তা সরকারের

নাইজারের রাজধানী নিয়ামিতে গত ২৯ আগস্ট রাতে সংঘটিত ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স ও নাইজারের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। নাইজারের সামরিক সরকার সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এবং তার প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে। যদিও ফ্রান্স এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে, তবে এই ঘটনা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বৈরী সম্পর্কের নতুন এক সংকটময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৯ আগস্ট মধ্যরাতে, যখন একদল বিদ্রোহী সেনা নিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন বেস ১০১ সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। বিদ্রোহীরা রাষ্ট্রপতির বাসভবনসহ রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গুলিবর্ষণ করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত করে। নাইজারের সেনাবাহিনী এবং রাশিয়ার আফ্রিকা কোরের সহায়তায় কয়েক ঘণ্টা লড়াইয়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে এই সহিংসতায় বহু সেনা হতাহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে।

নাইজারের সরকারি মুখপাত্র সুমানা বৌবাকার অভিযোগ করেছেন, ফ্রান্সের মদদপুষ্ট একটি বিশাল চক্র এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিল। নাইজারের মন্ত্রিপরিষদ দাবি করেছে যে, তাদের কাছে এই হামলার পেছনে ফরাসি সংশ্লিষ্টতার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে তোলার অধিকার রাখে। তবে বেনিনসহ অভিযুক্ত আঞ্চলিক দেশগুলো নাইজারের এই অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে আবদুরহমানে তচিয়ানি নাইজারের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সামরিক সরকার দাবি করছে যে, ফ্রান্স ও পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস তাদের সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে নাইজার কর্তৃপক্ষ রাশিয়া, আলজেরিয়া এবং সাহেল অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে নাইজারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ফ্রান্সের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন পুরো পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। ব্যর্থ এই অভ্যুত্থান নাইজারের বর্তমান সামরিক সরকারের টিকে থাকার লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এই অঞ্চলের অস্থিরতা এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরবর্তী পরিণতির দিকে গভীর নজর রাখছে।

০%
০%
০%
০%