মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সামরিক হামলার খবর পাওয়া যায়নি। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা ধারাবাহিক সংঘাতের পর এই আকস্মিক স্থবিরতা কূটনৈতিক আলোচনার নতুন পথ প্রশস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামরিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক বিরতি দিয়েছেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার সম্ভাবনাকে কিছুটা অবকাশ দিচ্ছেন। যদিও হোয়াইট হাউস প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তবুও পর্দার আড়ালে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছানোর পরই মার্কিন প্রশাসন বোমা হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য মতে, সামরিক অভিযানের তীব্রতা কমানোর পেছনে পেন্টাগনের মজুত থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতাও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। একই সময়ে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারাও তাদের পাল্টা আক্রমণাত্মক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এএফপিকে জানান, তাদের কৌশল মূলত প্রতিশোধমূলক ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাও সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো উসকানি এলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
তুরস্কের আনাদোলু বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিরলস যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানি প্রতিনিধি দলের সাথে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি এখনো কাটেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানবিরোধী নৌ-অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে এবং গত শনিবার পর্যন্ত ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে যে, তারা সতর্কতা হিসেবে বেশ কয়েকটি জাহাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও এর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের অধিকার নিয়ে উভয় দেশের মধ্যকার বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা