জাতিসংঘে ফরাসি বক্তব্যের প্রতিবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের ওয়াকআউট

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাঝপথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের আকস্মিক ওয়াকআউট বা সভাত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার ফ্রান্সের প্রতিনিধি যখন বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মার্কিন কূটনীতিকরা প্রতিবাদস্বরূপ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের মেয়াদ নবায়ন নিয়ে ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যকার তীব্র বাদানুবাদের জের ধরেই এই নজিরবিহীন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে ভলকার তুর্কের পুনরায় নিয়োগের বিরোধিতা করায় যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এ বিষয়ে জেনেভায় অবস্থিত ফরাসি মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর কোনো আলোকবর্তিকা নয়, বরং তারা উত্তর কোরিয়া, নিকারাগুয়া, মালি ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে এককাতারে দাঁড়িয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, ফ্রান্স এমন একজনকে সমর্থন দিয়েছে যিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়মিত উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ স্বৈরাচারী শাসকদের প্রতি নমনীয় আচরণ করছেন।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের বিকল্প মার্কিন প্রতিনিধি ড্যান নেগ্রিয়া স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্রান্স তাদের এই অবমাননাকর ও উদ্ধত বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রতিটি অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট অব্যাহত রাখবে। তবে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছেন, ফ্রান্সের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংস্থাটির কার্যকারিতা সমুন্নত রাখা।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন ও ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে আসা ভলকার তুর্ক ১৪৪টি ভোটের সমর্থনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। বিপরীতে ১০টি দেশ তাঁর নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ১৩টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে। ২০২৫ সাল থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া এবং বেশ কিছু সংস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পর তুর্কের ম্যান্ডেট নিয়ে পুনরায় মূল্যায়নের হুমকি দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

ন্যাটো জোটের ব্যয় নির্বাহ, বাণিজ্য নীতি এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মতো নানা ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যকার সম্পর্কে বর্তমানে চরম টানাপোড়েন চলছে। এর বাইরে ইরান প্রশ্নে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকার করায় ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ওপরও ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%